একসময় ডাকাতদলের কালী বলে খ্যাত ছিল, হতো নরবলীও। একদিনেই মাটি দিয়ে মায়ের মূর্তি তৈরি করে পুজো করে সূর্য ওঠার আগে বিসর্জনও দিয়ে দেওয়া হতো। এমনই নিয়ম রীতি মেনে পুজোর হয়ে আসছিল উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের দেবীনগর কালীবাড়ির শক্তির আরাধনায়। আবার এটাও কথিত আছে যে, ওপার বাংলার দিনাজপুরের রাজা গিরিজা নাথ রায় স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন যে, তার দিনাজপুর এলাকা ছেড়ে মা রায়গঞ্জের দেবীনগরের এই এলাকায় গাছের নীচে থাকবেন। এখানেই তিনি যেন পুজো করেন। সেইমতো মহারাজা লোক লস্কর ও পুজোর সব সামগ্রী নিয়ে এসে এখানে গাছের তলায় কালীর পুজো করতেন। এমনকি তিনি পুজোর পুরোহিত ও ঢাকিও সাথে নিয়ে আসতেন। সেসব পাঁচশো বছর আগেকার কথা। এখন এই পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন দেবীনগর কালীবাড়ি ও দূর্গামন্দির সমন্বয় কমিটি। এই মন্দিরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য মন্দিরের কোনও ছাদ নেই। জানা যায়, রায়গঞ্জের দূর্গাপুরের জমিদার ভূপাল চন্দ্র রায় চৌধুরী মায়ের স্বপ্নাদেশ পান দেবীনগরে গাছতলায় মন্দির তৈরি করার। কিন্তু মন্দিরে কোনও ছাদ বা চালা থাকবে না। জমিদার স্বপ্নাদেশ পেয়েই আজকের এই দেবীনগর কালীমন্দির নির্মান করে দিয়েছিলেন। খুবই নিয়ম নিষ্ঠার সাথে এখানে পুজো হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় দেবীনগর কালীবাড়ির শ্যামাপুজোয়।
তবে আজ একদিনে প্রতিমা তৈরীর নিয়মটা বদলে ফেলা হলেও দীপাবলির রাতে পুজো শেষ হওয়ার সাথে সাথে সূর্য ওঠার আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার রীতি আজও বজায় রেখেছেন দেবীনগর কালীবাড়ির পুজো কমিটি। রয়েছে বলি প্রথাও, তবে বলি দেওয়া হবে নদীতে মায়ের বিসর্জনের পর।